সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর ভিডিও মামলায় দ্বিতীয়বারও জামিন পেলেন না অভিযুক্ত
চার্জশিট দাখিলই জামিনের ভিত্তি নয়, গুরুতর অভিযোগে জানাল চণ্ডীগড় আদালত

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে একটি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া হাসান মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর দ্বিতীয় নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করেছে চণ্ডীগড়ের একটি আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কেবল চার্জশিট দাখিল হয়েছে—এই কারণেই জামিন দেওয়া যায় না, বিশেষ করে যখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) সোনালি সিং বলেন, আবেদনকারীর প্রথম জামিনের আবেদন আগেই খারিজ করা হয়েছিল। বর্তমান আবেদনে এমন কোনও নতুন বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়নি, যার ভিত্তিতে আদালত আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে।
মামলার পটভূমি
মামলাটি শুরু হয় ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল। চণ্ডীগড়ের সেক্টর-২৬ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারায় এফআইআর নং ৪৪ দায়ের করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও এমন ক্যাপশনসহ প্রচার করা হয়েছিল, যা একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে সক্ষম ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।
অভিযুক্তের দাবি
জামিনের আবেদন করে হাসান মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি প্রায় আড়াই মাস ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত কার্যত শেষ হয়েছে। কেবল ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া বাকি।
প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও জানায়, মামলার মূল প্রমাণ ডিজিটাল ও নথিভিত্তিক। ফলে জামিন পেলে তদন্তে হস্তক্ষেপ বা প্রমাণ নষ্ট করার কোনও আশঙ্কা নেই।
এছাড়া আবেদনকারীর শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের দাবি, প্রযুক্তিগত তদন্তে যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল, সেটির সঙ্গে আবেদনকারীর যোগসূত্রের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, প্রচারিত ভিডিও এবং তার সঙ্গে যুক্ত লেখা ছিল উসকানিমূলক। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেই দিকটিও এখনও তদন্তাধীন। তাই এই পর্যায়ে জামিন দেওয়া হলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, মামলার অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির অধীনে অপরাধের উপাদান রয়েছে বলে মনে হয়েছে।
আদালত স্পষ্টভাবে বলে, চার্জশিট আদালতে জমা পড়েছে—এটি নিজেই কোনও অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার যথেষ্ট কারণ হতে পারে না, বিশেষত যখন তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করে, আবেদনকারীর আগের জামিনের আবেদন ইতিমধ্যেই খারিজ করা হয়েছে। বর্তমান আবেদনে চার্জশিট দাখিল হওয়া ছাড়া নতুন কোনও আইনি বা বাস্তব পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়নি, যা পুনরায় জামিন বিবেচনার ভিত্তি হতে পারে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
অভিযোগের গুরুত্ব, তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং নতুন কোনও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির অনুপস্থিতি বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, এই পর্যায়ে আবেদনকারীকে নিয়মিত জামিন দেওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
ফলে হাসান মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর দ্বিতীয় নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় চণ্ডীগড়ের আদালত।



