মধ্যস্থতায় মিটল বিরোধ, ওমর-পায়ালের বিবাহবিচ্ছেদে সিলমোহর সুপ্রিম কোর্টের
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে বিবাহবিচ্ছেদ, সব মামলা প্রত্যাহারে সম্মত দুই পক্ষ

প্রায় দেড় দশক ধরে চলা জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং তাঁর স্ত্রী পায়াল আবদুল্লার বৈবাহিক বিরোধের অবসান ঘটাল সুপ্রিম কোর্ট। মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষ সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার পর সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের অনুমোদন দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ শুক্রবার (৩১ জুলাই) এই মামলার শুনানিতে জানায়, যেহেতু দুই পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন, তাই আদালত সেই সমঝোতাকে গ্রহণ করে মামলার নিষ্পত্তি করছে।
ওমর আবদুল্লা এবং পায়াল আবদুল্লার বিয়ে হয় ১৯৯৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর। তবে দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনের পর ২০০৯ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর ওমর আবদুল্লা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন।
২০১৬ সালের আগস্ট মাসে পারিবারিক আদালত তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত তখন পর্যবেক্ষণ করেছিল, স্ত্রী কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণ (Cruelty), পরিত্যাগ (Desertion) অথবা বিবাহ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যাওয়ার (Irretrievable Breakdown of Marriage) মতো কোনও আইনি ভিত্তি ওমর আবদুল্লা প্রমাণ করতে পারেননি।
পরবর্তীতে তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্টও পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর ওমর আবদুল্লা বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) দায়ের করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি মধ্যস্থতার (Mediation) জন্য পাঠায়। তখন দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আদালতের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সমঝোতার প্রক্রিয়া।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে ওমর আবদুল্লার পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষ সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, উভয়েই এখন স্বাধীনভাবে নতুন জীবন শুরু করতে চান এবং আদালতের কাছে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত আইনি কার্যক্রমও প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কপিল সিব্বলের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বেঞ্চ মন্তব্য করে, এটি একটি ইতিবাচক সমাধান এবং সমঝোতার ভিত্তিতেই মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।
আদালতকে আরও জানানো হয়, দুই পক্ষ যৌথভাবে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি আবেদন দাখিল করেছেন। সেই আবেদনে তাঁরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের প্রার্থনা করেছেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বিচারাধীন সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন।
সমস্ত নথি এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে হওয়া সমঝোতা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি গ্রহণ করে। আদালত জানায়, যেহেতু উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমস্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করেছেন, তাই সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করা হচ্ছে।
এই রায়ের মাধ্যমে বহু বছর ধরে চলা একটি উচ্চপ্রোফাইল বৈবাহিক বিরোধের অবসান ঘটল। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আবারও স্পষ্ট করল, যখন দুই পক্ষ পারস্পরিক সম্মতিতে সব বিরোধ নিষ্পত্তি করেন এবং আদালত মনে করে যে ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন, তখন সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।
মামলার শুনানিতে আদালত আরও নথিভুক্ত করে যে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে হওয়া সমঝোতার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে আর কোনও বিরোধ অবশিষ্ট নেই। তাই সমস্ত বিচারাধীন কার্যক্রম প্রত্যাহারের ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হল।
কেস টাইটেল: Omar Abdullah v. Payal Abdullah
কেস নম্বর: SLP(C) No. 7427/2024



