খবরাখবর

জাল নথি ও বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিতের অভিযোগে আইনজীবীর জামিন খারিজ হাইকোর্ট

প্রাথমিকভাবে সংগঠিত অপরাধচক্রের ভূমিকার ইঙ্গিত, নিয়মিত জামিন নাকচ পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের

জাল নথি তৈরি, ট্রাস্টের বিতর্কিত সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত আইনজীবী বিকাশ কুমারকে নিয়মিত জামিন দিতে অস্বীকার করেছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। আদালতের মতে, মামলার এই পর্যায়ে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি যথেষ্ট গুরুতর এবং প্রাথমিকভাবে তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বলে মনে হয় না।

বিচারপতি মনীষা বাত্রা রায়ে বলেন, বর্তমানে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনকারীকে নিয়মিত জামিন দেওয়ার মতো কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ আদালত খুঁজে পায়নি।

মামলার পটভূমি

মামলাটি দুটি ফৌজদারি অভিযোগ থেকে শুরু হয়, যা পরে হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর হাতে যায়। অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি একটি পুরনো ট্রাস্টের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম ব্যবহার করে নতুন একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। এরপর জাল নথি তৈরি করে জিরাকপুর-পাটিয়ালা রোডের ধারে প্রায় ৩২ বিঘা জমির ওপর অধিকার দাবি করার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগকারী ট্রাস্ট আরও জানায়, তাদের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরা জমিতে প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরাসহ অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে।

সিবিআই তদন্তে দাবি করে, আইনজীবী বিকাশ কুমার এই বিরোধ-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলায় কয়েকজন অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করছিলেন। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

সিবিআইয়ের অভিযোগ

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযোগকারী ট্রাস্টের নথি এবং সাক্ষীদের বিভিন্ন অসংলগ্ন আদালতের মামলায় তলব করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল ট্রাস্টের আর্থিক তথ্য সংগ্রহ, নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য আদায় এবং অভিযোগকারী পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

তদন্তে সাক্ষী প্রভদীপ সিংয়ের বয়ানও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর অজান্তেই তাঁর নামে আদালতে কিছু আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া সিবিআই একটি রেকর্ড করা কথোপকথনের উল্লেখ করে দাবি করেছে, তদন্তে সহযোগিতা বা সাক্ষ্যকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, বঠিণ্ডার একটি আদালতেও পছন্দসই নথি ও বক্তব্য পাওয়ার উদ্দেশ্যে আবেদন দাখিল করা হয়। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও বিচার চলাকালীন প্রমাণিত হওয়া বাকি।

আবেদনকারীর বক্তব্য

জামিনের আবেদন করে বিকাশ কুমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে কোনও নথি বা বস্তু উদ্ধারের প্রয়োজন নেই। তাঁকে মূল এফআইআরে অভিযুক্তও করা হয়নি। যে নথিগুলিকে জাল বলা হচ্ছে, সেগুলি তাঁর এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগেই তৈরি করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও জানায়, তিনি কেবল একজন আইনজীবী হিসেবে একটি ট্রাস্টের হয়ে দেওয়ানি মামলায় হাজির হয়েছিলেন। বিতর্কিত সম্পত্তিতে তাঁর কোনও মালিকানা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। সাক্ষীদের অন্য মামলায় তলব করার অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া আদালতের নজরে আনা হয় যে, তিনি ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। মামলায় ১৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ফলে দ্রুত বিচার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি মনীষা বাত্রা বলেন, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কেবল একজন আইনজীবীর পেশাগত ভূমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিকভাবে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, “প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলি থেকে আবেদনকারী ও সহ-অভিযুক্তদের নিয়ে একটি সংগঠিত অপরাধচক্র গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।”

আদালত আরও বলে, একজন আইনজীবী হিসেবে আবেদনকারীর জানা থাকার কথা যে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনও পদক্ষেপের আইনি পরিণতি কী হতে পারে।

অভিযোগের প্রকৃতি, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আনা নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে তাঁকে নিয়মিত জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির সময় যে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তা শুধুমাত্র এই আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মূল মামলার বিচার চলাকালীন এগুলি কোনওভাবেই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে না।

কেস টাইটেল: Vikas Kumar v. Central Bureau of Investigation

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button