হাইকোর্ট

রিফান্ড পাওনা থাকলে দেরিতে রিটার্ন দিলেও ফৌজদারি মামলা চলবে না, রায় বম্বে হাইকোর্টের

টিডিএস সমন্বয়ের পর কর বকেয়া না থাকায় মামলা আইন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বলে মন্তব্য আদালতের

আয়কর রিটার্ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়ার অভিযোগে এক করদাতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, মূল্যায়নের (Assessment) পর যখন দেখা গেছে ওই করদাতা সরকারের কাছে কর বকেয়া নন, বরং ₹১,৬৪,৩৪০ ফেরত পাওয়ার অধিকারী, তখন তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া আইনের অপব্যবহারের শামিল। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, আয়কর আইনের ২৭৬সিসি (Section 276CC) ধারার প্রোভিসো বা ব্যতিক্রমী বিধানের সুরক্ষা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

বিচারপতি মাধব জে. জামদার ২২ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেন। তিনি রাজেশ সোমানদাস সচদেবের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেন।

মামলার পটভূমি

রাজেশ সোমানদাস সচদেব বম্বে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। তিনি মুম্বইয়ের ব্যালার্ড পিয়ারের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন Criminal Complaint No. SW/535/2018 বাতিলের আবেদন জানান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ মূল্যায়ন বর্ষের (Assessment Year 2014–15) জন্য তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭-এ আয়কর বিভাগ আয়কর আইনের ১৪৮ ধারার অধীনে তাঁকে রিটার্ন জমা দেওয়ার নোটিশ পাঠায়। তবুও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না হওয়ায় ৭ মার্চ ২০১৮-এ তাঁর বিরুদ্ধে আয়কর আইনের ২৭৬সিসি ধারায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পরবর্তীকালে ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ রাজেশ সচদেব তাঁর আয়কর রিটার্ন জমা দেন। সেখানে দেখা যায়, তাঁর আয় থেকে ইতিমধ্যেই ₹২,৫৪,৭৮৮ টিডিএস (Tax Deducted at Source) কাটা হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে আয়কর বিভাগ জানায়, তাঁর কাছ থেকে কোনও কর আদায়যোগ্য নয়; বরং তিনি ₹১,৬৪,৩৪০ ফেরত পাওয়ার অধিকারী। বিভাগ তাঁর রিটার্নও কোনও আপত্তি ছাড়াই গ্রহণ করে।

আবেদনকারীর দাবি

রাজেশ সচদেবের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, যদিও রিটার্ন নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়া হয়েছে, তবুও তাঁর ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ২৭৬সিসি ধারার প্রোভিসো প্রযোজ্য।

তাঁর আইনজীবী যুক্তি দেন, যেহেতু তিনি সরকারের কাছে কোনও কর বকেয়া ছিলেন না এবং উল্টে রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো আইনের দৃষ্টিতে টেকসই নয়।

এই যুক্তির সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের Guru Nanak Enterprises v. Income-tax Officer মামলার রায় এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টের দুটি সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করা হয়।

আয়কর বিভাগের বক্তব্য

আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আবেদনকারী ১৪৮ ধারার নোটিশ পাওয়ার পর এবং ফৌজদারি মামলা শুরু হওয়ার পরে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তাই ২৭৬সিসি ধারার ব্যতিক্রমী সুরক্ষা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে শুনানির সময় বিভাগ স্বীকার করে যে, চূড়ান্ত মূল্যায়নে দেখা গেছে আবেদনকারী ₹১,৬৪,৩৪০ রিফান্ড পাওয়ার অধিকারী।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি মাধব জে. জামদার ২৭৬সিসি ধারার প্রোভিসো বিশ্লেষণ করে বলেন, অগ্রিম কর (Advance Tax) এবং টিডিএস সমন্বয়ের পর যদি করদাতার প্রদেয় কর আইনে নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে যায় বা কোনও প্রকৃত কর দায় অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তাঁকে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি করার উদ্দেশ্য আইনটির নয়।

আদালত সুপ্রিম কোর্টের Guru Nanak Enterprises মামলার রায়ের উল্লেখ করে জানায়, প্রোভিসোর শর্ত পূরণ হলে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা থাকে না।

বেঞ্চ মন্তব্য করে, “এই ফৌজদারি মামলা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং তা চালিয়ে যাওয়া আইনের প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের শামিল।”

আদালত আরও উল্লেখ করে, মামলার অনুমোদন (Sanction) দেওয়ার সময় আয়কর কমিশনার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনা করেননি যে আবেদনকারীর আয় থেকে ইতিমধ্যেই ₹২,৫৪,৭৮৮ টিডিএস কাটা হয়েছিল। ফলে সরকারের কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি; বরং আবেদনকারীরই রিফান্ড পাওনা ছিল।

আদালতের সিদ্ধান্ত

সমস্ত তথ্য ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে বম্বে হাইকোর্ট জানায়, এই মামলা সম্পূর্ণভাবে Guru Nanak Enterprises মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নীতির আওতায় পড়ে।

যেহেতু মূল্যায়নের পরে স্পষ্ট হয়েছে যে আবেদনকারীর কোনও কর বকেয়া ছিল না এবং তিনি রিফান্ড পাওয়ার অধিকারী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ চালিয়ে যাওয়ার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই।

ফলে আদালত রাজেশ সোমানদাস সচদেবের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা খারিজ করে রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে।

কেস টাইটেল: Rajesh Somandas Sachdev v. Income Tax Officer & Ors.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button